Sunday, 14 January 2024
Saturday, 13 January 2024
"দীপজনম"- Suhita Bhattacharyaya ( Sem 1 4 Years Major/ 2023-24)
তোমার কাছে আমার কথার ইচ্ছে নিভে আসে।
পাঠাভিজ্ঞতা --বই - "স্রোতোবক্ষে রাখিব মর্মর ধরণ - কবিতাসংকলন" - সন্মাত্রানন্দ - by Suhita Bhattacharyaya ( Sem 1 4 years Major/2023-24)
বইয়ের পাঠানুভূতি লেখা আমার পক্ষে বেশ কঠিন কাজ। সে যেকোনো ধরনের বই হোক না কেন। কোনো বইয়ের কথাবিশ্ব রচনা করার আগে তার কেন্দ্রে থাকা যে নিরবয়ব চিন্তা পূর্বতঃসিদ্ধভাবে সঞ্চিত হয়ে থাকে কথাকারের চেতনায়, তার ব্যাসকূটগুলি (আমার মনে হয়) কবিতার মতোই জটিল ও মননশীল ব্যক্তির নিকট সুস্বাদু, তার ছন্দোবদ্ধ প্রশ্নগুলি কাব্যের ছন্দের মতোই পাঠক ও কথাকার - উভয়ের ভাবজগৎকে আন্দোলিত করে। প্রকাশে তার রূপ হতেই পারে ছোটগল্প বা উপন্যাস বা প্রবন্ধ। কিন্তু অন্তঃশীল পরিচয়ে প্রত্যেক রসোত্তীর্ণ লেখাই কবিতা। আর কথানিহিত যে কবিতাবোধ, সে এমন এক জিনিস, তার কাছে মূক হয়ে যেতেই হয়। আর এই কথানিহিত কবিতাবোধের প্রকাশ যদি হয় কবিতাতেই, তবে কী হয়? মানুষের অতখানি মূক হওয়ার ক্ষমতা নেই যে। সেই মুগ্ধ প্রগলভতাতেই আজ এসব লিখতে বসেছি।
লিখতে বসে ভাবছি -- বেদনা, শূন্যতা,
প্রেম, হতাশা, সমসাময়িক একাকিত্ববোধ থেকে প্রাকৃত অতীতের কথাকাকলি -- এই সবকিছুর
বোধ কত তীব্র হলে; এত পরস্পরবিরোধী, অসরল বিষয়গুলোকে কতটা সরল অনুভূতির সুতোয়
বাঁধতে পারলে তবে এমন কবিতা লেখা যায়! অথচ কী সহজ এই কবিতাগুলি রচনার বিষয়ে কবির
উক্তি : "আবহমান বাংলা কবিতার স্রোতঃপথে দুয়েকটি শুকনো পাতা উড়ে গিয়ে
পড়ে। তাদের মর্মরধ্বনি মিশে যায় কবিতার নদীস্রোতে। আমার এ কবিতাগুলির তাৎপর্য
অতটুকুই।... ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, অনুভব ও স্মৃতির মূল্যেই এদের মূল্য দিয়েছি, তার
বেশি কিছু জানি না।.." (ব্লার্ব থেকে)
সুতরাং, বইয়ের নামকরণ ও ব্লার্ব থেকে বোঝা যায়, বাংলাভাষার বহুতর
কাব্যস্রোতে একখানি হলুদ পাতা ভাসিয়ে দিলেন কবি -- অর্থাৎ, পাঠক ও শব্দশিল্পীর
ওতপ্রোত সম্পর্ককে যেমন স্বীকার করে নিলেন, তেমনই স্বীকার করে নিলেন সহস্র মানুষের
সম্মিলিত অন্তহীন চিন্তনপ্রবাহের অস্তিত্বের কথা। আমার ব্যক্তিগতভাবে ভাবতে ইচ্ছে
করে, বড়ো কাব্যিকভাবে বৌদ্ধদর্শনের বিজ্ঞানপ্রবাহের ধারণাকে ব্যবহার করেছেন তিনি।
প্রথম কবিতা 'যাপন'-এ কবি ধরেছেন
ব্যক্তিকাল কীভাবে ভেঙে দেয় ব্যক্তিকাল, একজনের যাপন এসে কীভাবে তছনছ করে দেয়
আরেকজনের যাপন। কখনো মানুষ নিজের যাপন ভাঙে নিজেই। এই আজব পৃথিবীতে 'এই অদ্ভুত এই
মজার বাড়িটাতে আটকে' থাকা কত হাজার যুগ, কেবল নিস্তরঙ্গ এক শান্তির আশায়। শান্তি
কি আমরাও খুঁজছি না নিজেদের মতো করে? নাকি 'এলেবেলে' কবিতায় যে কষ্ট রেখেছেন কবি,
তার কোনো অভিজ্ঞতা আমাদের নেই? আমাদেরও তো একটা করে নিজস্ব গল্প আছে, হয়তো এই
জনমে তা আর বলা হলো না, সেই অপ্রকাশের ব্যথা দেখতে পেয়ে যান কবি -- "এজন্মে
নয়, আমারও যে গল্প একটা আছে/সেসব নাহয় লিখব ফিরে এলে।" বারবার জীবনে ফিরে
ফিরে এসে জীবনকে দেখার ইচ্ছা কবিকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়, উনি দুঃখ চান, দুঃখের
অণুবীক্ষণে দেখতে চান জীবনের জটিল চলন। মায়াঘন বর্ষার রাতের মতো দুটি চোখ চান -
"দুঃখনিবৃত্তি আমার চাই না। আমি শুধু দুঃখের মেঘের ভিতর দিয়ে দেখতে চাই ওই
দুটি কাজলকালো চোখের মায়াবী দৃষ্টি।" আবার "সমুদ্রগুপ্তের সহিস"
কবিতায় দেখি ইতিহাসখ্যাত প্রবল প্রতাপান্বিত সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের সহিস তিষ্যর
কথা, অতীতের প্রাকৃতজনের কথা কবির মনে পড়ে হাল আমলের কলকাতার রুবির মোড়ে এক
অটোচালককে দেখে। দুজনে অভেদ? মৃত্যু আর কালের মধ্য দিয়ে হেঁটে এসেছে শুধু?
বর্তমান ব্যক্তিপরিচয় তবে কতটা গভীরে প্রোথিত? আদতে সত্তার সুস্থির পরিচয় আছে কি
কোথাও? প্রশ্ন জাগে।
কখনো কখনো নিজেকে অন্তর্মুখী করে
কোলাহল থেকে সরিয়ে আনেন নিজেকে "মেলাফেরতা পথে"র মতো কবিতায়, তখন
কবিকিশোরের কিশোরী হয় বা বুঝি কিরাতভূমির 'পরে অনাদিকাল বয়ে চলা মনুনদীখানি।
আবার কুণ্ঠিত হন না "অসূয়ার অবতারদের প্রতি" কথাকষা প্রয়োগে।
"আমার অসুস্থ ভাইয়ের জন্য" কবিতায় ক্ষমা চাওয়ার মধ্যে যে শ্লেষ রেখে
যান সমাজের প্রতি, তা এড়ানো যায় না।
অবশেষে অনেক শব্দ, প্রতিবাদ, চিত্র,
অনুভূতি, সত্তালগ্ন বেদনাবোধ পেরিয়ে বই শেষ হয়ে আসে। যেন কোনো বৃহত্তর সাধনার
আপ্তির ক্ষণ আসে এগিয়ে। কবি এতক্ষণে জাগতিক ঘাতপ্রতিঘাতের স্তর থেকে বহু উপরে :
"কিন্তু আমাকে আঘাত করা কঠিন।/কারণ, আমি কখনই আঘাতকারীর সমস্তরে আসব
না।" তারপর কোনো এক শব্দদীপ নিভে যাওয়া নীরব রাত্রিকালে ওনার 'মন
বিতর্কবিমুখ, অবলীন --/ নিজ অনুভবে'। উনি বুঝিয়ে দেন, মানুষের এই সুপ্রবল কথাবাক্যের
আস্ফালন হাস্যকর অস্মিতা মাত্র। মৃত্যু এসে কেড়ে নেয় সব। এই ঈর্ষাবিষ, ছদ্মরূপতা
-- সব এক লহমায় নিভে যায়। কেবল থাকে কথাতীত অনুভব। এই কি কবিতার আদি তত্ত্ব?
কবিতা কি সেটাই যেটা আসলে লেখাই হয়ে ওঠে না কোনোদিন? কে জানে। "শেষ হয়েও
হইল না শেষ।"
সত্যি বলছি, এইরকম কয়েকটা বইয়ের সাথে সারাজীবন বেঁচে থাকা যায়।
'হলদে ডানার কাব্য' -ঐশী দাস ( Sem 3 / 2023-24)
আমার পুরোনো বই খুব ভালো লাগে
হলদে হয়ে ওঠা পুরনো পৃষ্ঠায় পুরানো
স্মৃতির ঘ্রাণে….
আমি আমার ফুসফুসে ভরে নিই।
ফুটপাথ থেকে বিভিন্ন বই ঘেঁটেঘুঁটে
বেছে বুছে এক - একধরনের হ্যান্ড মণি- মানিক্য
তাদের খুঁজে পেলে মনে হয় কোনো গুপ্তধনের নকশা পেলাম।
লাইব্রেরির জমে থাকা ধুলি ধূসরিত জরাজীর্ণ
বইগুলি,
যাদের বহু বছর কেউ খোঁজ করেনি,যারা
লাইব্রেরীর
সন -তারিখের চিহ্ন পৃষ্ঠায় নিয়ে
চাতকের মত কোনো এক পাঠকের অপেক্ষায় দিন গুনতে থাকে ,
তাদের আমি চুপকথা শুনি ।
নতুন রা্ংতায় মোড়ানো বইদের চেয়ে আমার,
বহুবার ব্যাবহৃত, অবহেলার চাদরে আবতৃ হয়ে বিক্রি করে দেওয়া
জীর্ণ মলাটের অনাথদের আমার ভীষন প্রিয়।
এরা কেবল লেখকদের কথাই বলে তা নয়,
এদের প্রতিটা পাতা জুড়ে আগের কোনও
ব্যর্থ কিংবা সাফল্য পাঠকের প্রতিটা সূক্ষ্ম
অনুভূতির সাক্ষী।
আর উপহারে পাওয়া বইগুলিতে থাকে অসংখ্য
অজানা - আপনজনে র নাম,
যারা হয়ত নিজেদের “Ego” এর কারণে আজ আর একসাথে নেই….
হয়তো বা আছে !
পরে না - জানি কত হাত ঘুরে তারা
অবশেষে আমার কাছে এসেছে
।
আমি তাদের ভাঙা মেরুদণ্ডে আঠা মাখিয়ে ,
হলদে হয়ে যাওয়া ছেঁড়া ডানায় সেলোটেপ
লাগাই, দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া কান সোজা করি।
এই পুরোন বইগুলি তো শুধু
ছাপার অক্ষরের গল্পঃ বলে না,
এরা প্রত্যেকে এক - একটি সময়ের ছাপের,
মুছে যাওয়া
ইতিহাসের সাক্ষী দেয়….।।
"জীবন"- মৈত্রেয়ী রায় ( Sem 3 / 2023/24)
জীবনে সব কিছুই খুব প্রয়োজন। ভালো থাকা, ভালো রাখা এবং মানিয়ে নেওয়া। জীবনে ভালো থাকার জন্য নিজেকে একটু সময় দেওয়া খুব প্রয়োজন। কারণ নিজেকে একটু সময় দিলে নিজের মধ্যে থাকা ভালো খারাপ গুলো বোঝার ক্ষমতা তৈরি হবে, সংশোধন করে সব কিছু ঠিক করার সুযোগ মিলবে।
অন্যদিকে একটা বা অনেক গুলো মানুষ কে ভালো রাখা টা খুব প্রয়োজন। মানুষকে ভালো রাখতে পারার মধ্যেও একটা আলাদা আনন্দ আর তৃপ্তি থাকে। আর সঙ্গে থাকে একটা জয় কিছু পারার। জীবনে নিজে ভালো থাকার সাথে সাথে অন্যদের প্রতিও সমান যত্নশীল হয়ে ওঠা প্রয়োজন । তাহলে নিজের সাথে অন্যদেরও ভালো থাকাটা সহজ হয়ে ওঠে।
আর রইলো বাকি মানিয়ে নেওয়া সেতো একটা আলাদাই বৈশিষ্ট্য ; যেটা সবাই খুব সহজে পারে না। সব পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করার মধ্যে যে দক্ষতা তা বিশেষ দ্রষ্টব্য। সব পরিস্তিতির সাথে মোকাবিলা করে টিকে থাকার ক্ষমতা খুব কম জনেরই হয় ; সেই সব মানুষ গুলো সম্মান পাওয়ার যোগ্য ।
জীবনে বহু বাধার সন্মুখিন হতে হবে কিন্তু ভয় না পেয়ে এগিয়ে চলার নামই জীবন। জীবনে অনেক ব্যর্থতা আসবে সেগুলোকে ভুলে নতুন করে শুরু করার নামই জীবন। তাই জীবনে থেমে থাকলে চলবে না, আমাদেরকেও সমান তালে নিজেদের তৈরি করতে হবে। প্রত্যেক ব্যাক্তিই কোনো না কোনদিক থেকে সবল এবং তাকে সেই দিক টাকেই সবার সামনে তুলে ধরতে হবে।
হ্যা,এটা ঠিক যে জীবনে সত্যিই কিছু মানুষ থাকে যারা কাছে না থেকেও অনেকটা পাশে থাকে, তাদেরও অনেকটা সম্মান এবং ভালোবাসা প্রাপ্য।
আর যারা ভালোবাসতে জানে তারা জীবনে সব
অসম্ভব জিনিসই সম্ভব করে তুলতে জানে।
জীবন টা বহু ভালো খারাপ নিয়ে গঠিত,তাই
পিছনে না তাকিয়ে বর্তমান কে সাথে নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়ানো উচিত ।
"সেই মাঝি" - - Tiyasha Biswas [3rd Sem ( Hons)/ 2023-24]
আমি এক দিকভ্রান্ত নাবিক যেন,
এক নীল ধূসর দুরাশার মধ্য দিয়ে
আমার গন্তব্য শুরু করেছিলাম।
সময়টা ছিল গ্রীষ্মের,
হঠাৎ এক আচমকা ঝর এসে
এক মুহুর্তে সব কিছু নাড়িয়ে দিয়ে চলে গেল।
আমার পুরোনো জাহাজ চলছে,
তখনও বুঝিনি সর্বনাশের থাবা, ইতি মধ্যেই,
হাতছানি দিয়ে ডাকতে শুরু করেছে আমায়।
কিছু বুঝে ওঠবার আগেই,
জাহাজের তলা ছিদ্র হয়ে,
জল বুক পর্যন্ত উঠে গেছে।
ডুবে গেলাম আমি,
মাঝে মাঝে জল ছাড়িয়ে মাথা নাড়িয়ে
উঠে দেখার চেষ্টা করছি।
আপ্রানে চাইছি একটা তীরের সন্ধান,
কিন্তু এভাবে আর কতক্ষন?
সাঁতরে যে ক্লান্ত আমি।
জ্ঞান হারিয়ে ফেলে ছিলাম হয়ত,
মাঝের স্মৃতিগুলো আবছা,
শুধু মনে আছে দূর থেকে কেউ যেন আসছে।
হুম একেই হয়ত বলে ভাগ্যের ফের,
এত প্রবল ঝরের মধ্যেও এক মাঝি,
তার নৌকা নিয়ে আসছে, আমার দিকেই আসছে।
নিদ্রাচ্ছন্ন এই চোখদুটো আমার এবার বিশ্রাম চাইছে,
এই দীর্ঘব্যাপি লড়াইয়ে, আমার ক্লান্ত হাতগুলো, ব্যাকুল ভাবে ওই
মাঝির প্রতীক্ষার্থী।
নৌকাটি কাছে এনে, আমার হাত ধরে,
আপ্রাণ তোলার চেষ্টা করে চলেছে, ওই মাঝি।
সংজ্ঞাহীন আমার তার পরের ঘটনাগুলো স্মৃতি বিলুপ্ত।
সকাল হয়েছে, ঘুম থেকে উঠে দেখি,
গতকালের প্রবল ঝড়ে সব কিছু তছনছ,
আর আমি এক অজানা তীরে ধুলাচ্ছন্ন অবস্থায় শুয়ে।
কিন্তু প্রকৃতির তান্ডবে, সব ওলটপালট হলেও,
সেই মাঝি এখনও আমার মাথার কাছে বসে,
আমার চোখ খোলার অপেক্ষায়।

.png)
.png)